ফেসবুক ওয়াল ভরে গেছে আল্লামা আর বুজুর্গব্যক্তিবর্গ দিয়ে। তারা এতোটাই ধার্মিক, ধর্মের সামান্য ‘এহানত’ তারা বরদাশত করতে পারে না। ইসলাম ধর্মকে এরা একটা পৈতৃক সম্পত্তি বানিয়ে নিয়েছে। তারা ছাড়া কেউ ইসলাম নিয়ে কথা বলতে পারবে না! তারা যেখানে খুশি যেভাবে ইচ্ছা ইসলামকে ব্যবহার করবে। এতে ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষতি হচ্ছে নাকি লাভ হচ্ছে— এই বোধও তাদের নেই।

দূর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন গেলো দুদিন আগে। দশমীর আগে ও পরে এই বুজুর্গদল বেশ সরব হয়ে উঠলো। তারা বিভিন্ন হিন্দু প্রতিমার আপকামিং ছবি পোস্ট করে অত্যন্ত আফসোসের সঙ্গে বলতে লাগলো, নিজেদের খোদার পাছায় বাঁশ দিয়ে হিন্দুরা আবার সেগুলোর পূজা করে!
নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের ছবি পোস্ট করে খ্যাঁকখ্যাঁক করে হেসে বলতে লাগলো, ঈশ্বর থাকেন সপ্তাকাশের উপরে আর তাদের ভগবান থাকে বুড়িগঙ্গার তলায়!

তো মিস্টার বুজুর্গ! এই যে আপনি অন্য ধর্মের উপাস্যদের নিয়ে এমন বাজে মন্তব্য করতেছেন, আপনি কি মাঝেমাঝে কুরআন শরিফ অধ্যয়ন করেন? দেখেন তো এই আয়াতাংশটা কখনো পড়েছেন কি না—

وَلاَ تَسُبُّواْ الَّذِينَ يَدْعُونَ مِن دُونِ اللّهِ فَيَسُبُّواْ اللّهَ عَدْوًا بِغَيْرِ عِلْمٍ

‘অন্য ধর্মাবলম্বীরা আল্লাহ ছাড়া যাদের উপাসনা করে সেসব দেব-দেবীকে তোমরা গালি দিও না। তাহলে তারা সীমালংঘন করে অজ্ঞতাবশত আল্লাহকে গালি দেবে।’ -সূরা আনআম : ১০৮

সো, আপনে আসলে ধর্ম প্রচারের এজেন্সি খোলার মাধ্যমে আল্লাহকে গালি দেয়ার ব্যবস্থা করতেছেন। প্রকারান্তরে আরেকজনকে গালি দেয়ার মোক্ষম সুযোগ করে দিয়ে আপনি নিজেই আল্লাহকে গালি দিচ্ছেন।
মাথায় ঘিলু বলতে কিছু পদার্থ থাকার কথা। ওইগুলা আছে নাকি ইসলামের নামে ত্যাঁদড়ামি করে সব শেষ করছেন?

আপনি বাংলাদেশে বসে হিন্দুদের মূর্তি এবং মূর্তিপূজাকে গালাগাল করে ‘বেশ একটা সোয়াবের কাজ করলাম’ বলে তুমুল আত্মতৃপ্তি পেলেন। কিন্তু আপনার কি মনে হয় না, এই গালিগালাজের কারণে আপনি আসলে ইন্ডিয়ার হিন্দুদের হাতে রামদা তুলে দিলেন? কুরবানির ঈদের সময় এই রামদা দিয়েই কোপানো হয়েছিলো ইন্ডিয়ার উত্তরপ্রদেশের আখলাক ও তার ছেলেকে। ছেলে পঙ্গুপ্রায়, আখলাক নিহত হয়েছেন।

আপনে তাদের প্রতিমাকে গালি দিবেন আর তারা আপনার খোদাকে এবং খোদার বান্দাদের সম্মান করে বুকে টেনে নিবে, মাথায় ঘিলু থাকলে তো এমন চিন্তা উদয় হওয়ার কথা না।

কিছুদিন আগে যখন রোহিঙ্গাদের নিয়ে এই ত্যাঁদড় ধার্মিক শ্রেণি সত্যাসত্য কিছু না জেনেই মাতম তুলেছিলো, তখন অস্ট্রেলিয়া থেকে এক প্রবাসী রোহিঙ্গা আমাকে ফোন করেন। তিনি দুঃখের সঙ্গে জানান, বাংলাদেশে বছর তিনেক আগে কক্সবাজারের রামুতে একটি বৌদ্ধ মন্দির কে বা কারা আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। দু-একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু আহত হন।
এই মন্দির পোড়ার ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের মুসলমানদের তো কিছুই হয়নি, কিন্তু আরাকানের রোহিঙ্গাদের উপর নেমে আসে নির্যাতনের নির্মম খড়গ। প্রায় আশিটি মুসলিম পরিবারের বাড়ি-ঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। হত্যা করা হয় অনেক রোহিঙ্গা মুসলমানকে। তাদের অপরাধ— কেন তাদের মুসলিম ভাই-বেরাদরগণ বাংলাদেশে বৌদ্ধ মন্দিরে আগুন দিলো?

এবার কি আমার কথার শানে নুজুল বুঝতে পেরেছেন মিস্টার অতি বুজুর্গিধারী ধার্মিকগণ? কুরআন পড়বেন না, কুরআনের আদেশ নিষেধ মানবেন না, নিজেকে জাহির করবেন বিরাট ইসলামওয়ালা; ইসলাম ব্যবহার করা এতোই সস্তা? আরেকজনকে গালি দিয়ে আল্লাহর প্রিয়পাত্র হওয়া এতো সোজা?


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *