রাষ্ট্রের মায়রে বাপ!

সীমানাসাশিত দেশপ্রেম হচ্ছে আধুনিক পৃথিবীর সবচে বর্বর দাসত্ব৷ এই ‘সোনার বাংলা’ বা ‘ভারতভাগ্যবিধাতা’ দিয়ে যে দেশপ্রেমের সবক রাষ্ট্র কর্তৃক শেখানো হয়, তা দিয়ে মূলত আমাকে ঘৃণা করতে শেখানো হলো— তোর দেশ বাদে দুনিয়ার তাবৎ জাতি ভালোবাসার অযোগ্য৷ কী আশ্চর্য! কাগজের মানচিত্রে একটা রেখা টেনে বলে দিলেন— তোর ভালোবাসার সীমানা ছাপ্পান্ন Read more…

বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি

ধর্ম এবং জাতিসত্তা— এ দুটোর উল্টো চিত্রটা আপনাকে বুঝতে হবে। একপিঠে লেখা থাকবে— মানবতা, ইনসানিয়্যাত, হিউম্যানিটি; অপরপাশে একদল লোক নিজ গরজে লিখে নিবে— ধর্মহত্যা, জাতিবিদ্বেষ, অমানবিকতা, চরমপন্থা। ধর্ম এবং জাতিসত্তা— এ দুটো অভিধা অধিকাংশেই পরস্পরের সাংঘর্ষিক। হোক সেটা বৌদ্ধধর্ম, হিন্দুধর্ম, ক্রিশ্চিয়ান কিংবা ইসলাম। কেননা জাতিসত্তার অহংবোধ মানেই হলো অপর জাতিকে Read more…

ক্ষুদ্র চিন্তার গণ্ডি থেকে বের হয়ে আসুন

কখনো ক্ষুদ্র চিন্তা করবেন না। নিজেকেও নিয়েও না, অন্যকোনো বিষয় নিয়েও নয়। যখনই চিন্তা করবেন, অবশ্যই বৃহত কিছু চিন্তা করবেন। উদাহরণ দেই। একটা বই লিখবেন। আপনার বইয়ের পাঠক কারা? ধরলাম আপনি মাদরাসার ছাত্র বা মাদরাসা থেকে পাশ করা একজন মওলানা-লেখক। এই দৃষ্টিকোণ থেকে আপনি চিন্তা করছেন যে আপনার বইয়ের পাঠক Read more…

ধর্মীয় শিক্ষা শিকড়ে ফিরবে

ধর্মীয় শিক্ষার ব্যাপারে আমার মনে হয় শিকড়ে ফিরে যাবার সময় এসেছে। প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক পড়াশোনার পরিবর্তে ‘শিক্ষককেন্দ্রিক’ পড়াশোনা ধর্মীয় বিদ্যার্জনের জন্য সবদিক থেকে উত্তম। সাধারণ্যের জন্য আবশ্যিক ধর্মীয় শিক্ষার নানা প্রতিষ্ঠান থাকতে পারে, কিন্তু যারা ধর্মবেত্তা হবেন, তাদের জন্য গুরুমুখী জ্ঞানার্জনের বিকল্প কখনো মাদরাসা বা প্রতিষ্ঠান হতে পারে না। প্রতিষ্ঠানের অনেক বিধি-নিষেধ Read more…

সৌজন্যতার ভদ্রতাবোধ

সৌজন্যতা খুব সামান্য বিষয় দিয়ে আদায় করা যায়। যেমন ‘ধন্যবাদ’ ‘শোকরিয়া’ বা ‘থ্যাংক ইউ’ বলা। ধন্যবাদ বলার জন্য তেমন কোনো উপলক্ষের অপেক্ষা করা বোকামি। ধরুন, রিকশা দিয়ে কোথাও গেলেন, রিকশাওয়ালাকে ভাড়াটা দেয়ার পর একটা ধন্যবাদ বলে দিতে পারেন। এতে আপনার তেমন কোনো ক্ষতি হলো না, কিন্তু রিকশাওয়ালার মনটা খুশি হয়ে Read more…

আমার মতো নবীন লেখকরা লক্ষ রাখবেন

লিখতে গেলে শব্দের শেষে ‘ই’ এবং ‘ও’ অব্যয় পদের ব্যবহার যেন পরিমিত থাকে। অনেক নতুন লেখকের ক্ষেত্রে দু-এক বাক্য পরপর এই দুই অব্যয় পদ অধিক ব্যবহারের প্রবণতা থাকে।  এক বাক্যে অধিক অব্যয় পদের ব্যবহার বাক্যকে দুর্বল করে তোলে এবং শুনতে শ্রুতিকটু লাগে। ব্যাকরণিকভাবে এটা দোষণীয়।  নতুনরা লেখার বক্তব্য বা গল্পকে Read more…

ব্র্যাক এবং আড়ং-এর মানবপণ্য

ব্র্যাকের (আড়ং-এর মূল প্রতিষ্ঠান) প্রধান মূলধন বাংলাদেশের দারিদ্র। বাংলাদেশে যতদিন দারিদ্র থাকবে ততদিন তাদের এনজিও নামের রমরমা ব্যবসা চলবে। এনজি’র নাম করে গত ৪০ বছরে ব্র্যাক-গ্রামীণ ব্যাংকঅলারা বিদেশি দাতাদের থেকে যে পরিমাণ টাকা এনেছে, তা দিয়ে আরও ১০টা বাংলাদেশ বানানো সম্ভব।  সুতরাং স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও কেন দারিদ্রের ঝোলা নিয়ে Read more…

পড়ালেখা করে যে, সে কেন গাড়ি ঘোড়ায় চড়ে

উপনিবেশকালীন সময়ে ব্রিটিশ প্রণীত শিক্ষাধারা এবং শিক্ষা কারিকুলাম যতদিন এ দেশে থাকবে, ততদিন এ দেশে টেকসই কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। কারণ, এই শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন করা হয়েছিল একদল শিক্ষিত চাকর তৈরি করার জন্য, যারা শিক্ষিত হয়ে ব্রিটিশদের বশংবদ হিসেবে লেজ নাড়বে। এটা ছিল খাঁটি চাকর তৈরির কারিকুলাম। ভারতবর্ষ স্বাধীন হয়েছে Read more…

তথ্যদানবের উপনিবেশকালে আপনাকে স্বাগতম

Data Colonialism (ডাটা কলোনিয়ালিজম) কি হতে যাচ্ছে আগামী পৃথিবীর নতুন হুমকি? এমন শংকা করছেন খোদ বড় বড় প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরাই। Data Colonialism-এর সহজ বাংলা বলা যায় ‘তথ্য উপনিবেশবাদ’। অর্থাৎ, তথ্যের মাধ্যমে যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি বা কোনো দেশের ওপরও জবরদখল প্রতিষ্ঠা করে থাকে।  খুব ছোট্ট করে বিষয়টা বলি। ধরেন, আজ থেকে Read more…

ভারত যেদিন ভাঙবে

বহু সংস্কৃতি এবং বহু জাতিসত্তার ভারত একদিন ভাঙবেই। তবে এই ভাঙন রোধ করতে বিজেপির অস্ত্রটা বেশ কৌশলী। বিজেপি ধরতে পেরেছে, জাতি এবং সংস্কৃতিতে ভারতীয় জনগণ রাজ্যগতভাবে বহুধা বিভক্ত থাকলেও ধর্ম সংখ্যাগরিষ্ঠতায় তারা এক—সকলেই হিন্দু। এই হিন্দুত্ববাদই হলো বিজেপির সবচে বড় অস্ত্র। ফলে, তারা ভারতীয় হিন্দু জনগণের মাঝে এই বিশ্বাস বদ্ধমূল Read more…